সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে.এম. তাহসিফ সৌরভিনের রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্তে এক নতুন মোড় নিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নৌ পুলিশ এক তরুণী দিষাকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, তাহসিফের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ও জুনিয়র বন্ধু 'গভীর' নামের আরেক অভিযুক্ত বর্তমানে চারদিনের রিমান্ডে পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি। টঙ্গী নৌ পুলিশের পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ নিশ্চিত করেছেন, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দিষাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে থাকা গভীরকে ঘটনার পর থেকেই মধ্যরাত থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যেখানে তদন্তকারীরা তার প্রতিটি বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করছেন।

তদন্তে অসঙ্গতি ও নতুন তথ্য:

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফের পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI) প্রথমে গভীরকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গভীর তাহসিফের সাথে তার বিভিন্ন যাতায়াত এবং সেসব সফরের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। তবে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে গভীরের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি ও অস্পষ্টতা পাওয়া গেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে PBI ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শন ও তল্লাশি চালিয়েছে, যা তদন্তকে আরও গভীরে নিয়ে যাচ্ছে।
"গভীরকে তার পূর্ববর্তী বক্তব্য, পরিবারের অভিযোগ, প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামতের সাথে মিলিয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।"
নৌ পুলিশ সূত্র আরও জানায়, তদন্তকারীরা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন তাহসিফের মৃত্যুর পূর্বে আসলে কী ঘটেছিল এবং এই রহস্যজনক ঘটনার সাথে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত আছে কিনা। চারদিনের রিমান্ড শেষে গভীরের কাছ থেকে পাওয়া সব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজন সাপেক্ষে তাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ঘটনা ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে, যা সমাধানের জন্য তদন্তকারী সংস্থা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।