বাংলাদেশের বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম

সত্য প্রকাশে আপসহীন, বাংলাদেশের পক্ষে অবিচল

অপরাধ বিশ্লেষণ • রাজনৈতিক সংবাদ • আন্তর্জাতিক কূটনীতি • অনুসন্ধানী প্রতিবেদন — বাংলাদেশের সকল সত্য এক প্ল্যাটফর্মে

প্রধান সংবাদ

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রযুক্তির প্রভাব: ১২ লাখের বেশি কর্মী ঝুঁকিতে
জাতীয়১৬ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রযুক্তির প্রভাব: ১২ লাখের বেশি কর্মী ঝুঁকিতে

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী খাত তৈরি পোশাক শিল্পে প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে আগামী বছরগুলোতে ১২ লাখের বেশি কর্মী ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মী নারী শ্রমিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রমবাজারের চাহিদা দ্রুত বদলাচ্ছে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নীতিগত প্রস্তুতিতে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অর্জিত দক্ষতা ও শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় (টিভিইটি) অংশগ্রহণ ২০ শতাংশেরও কম, এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ। গবেষণায় চারটি বড় নীতিগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: - প্ল্যাটফর্ম ও গিগ অর্থনীতির কর্মীদের জন্য সমন্বিত নীতিমালার অভাব - অটোমেশনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত নীতি প্রণয়ন না হওয়া - দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে শিল্পখাতের প্রকৃত চাহিদার প্রতিফলন কম থাকা - অধিকাংশ পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপের অনুপস্থিতি সিপিডি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে: - শিল্পের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ - শ্রমিকদের জন্য পুনঃদক্ষতা (রিস্কিলিং) কর্মসূচি চালু - শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি - জাতীয় শ্রমবাজার তথ্যব্যবস্থা (LMIS) গঠন - প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা - নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান নীতি বাস্তবায়ন সিপিডির মতে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় অতিক্রম করছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

১৬ জুলাই, ২০২৬📍 আন্তর্জাতিক
বিস্তারিত →

সর্বশেষ সংবাদ

সব দেখুন
জাতীয়

জুলাইয়ের রক্তস্নাত গণ-অভ্যুত্থান: স্বৈরাচারী গুম-খুন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ

দেশের ইতিহাসে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত ক্ষোভের বিস্ফোরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। দুঃশাসন, দুর্নীতি ও নৃশংসতার প্রেক্ষাপট রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে স্পষ্ট করেন যে, এই গণ-অভ্যুত্থান আকস্মিক ছিল না। বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, বিচারবহির্ভূত গুম-খুন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং ক্রমাগত নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভই স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে ওঠে। এটি ছিল সাধারণ মানুষের জীবন থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়ার এক প্রতিবাদী উচ্চারণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বৈরাচারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী জনচেতনার বহিঃপ্রকাশ ছিল। জুলাই মাসের ১৬ তারিখে রংপুরে আবু সাঈদের প্রসারিত হাতের ছবি এবং গুলিতে তার শাহাদাৎবরণ দেশের আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়। একই দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও কয়েকজন তরুণ প্রাণ হারান। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আটক, জেল-জুলুম এবং সর্বস্তরের জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এতে অসংখ্য তরুণ-তরুণী আহত হন, যাদের অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে আজও যন্ত্রণাময় জীবন কাটাচ্ছেন। জনগণের ক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন বা অর্জন নয়; এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রের শক্তির উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাইয়ের চেতনা একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জুলাই শহীদদের আত্মদান ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান-স্বীকৃতি, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। রাষ্ট্রপতি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকে সরকারের পাশাপাশি এই মহৎ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত ও শাশ্বত শান্তি কামনা করেন।

১৫ জুলাই, ২০২৬পড়ুন →
মধ্যপ্রাচ্য সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে অগ্নিঝড়: মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ আরও ঘন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার "প্রতিশোধ" নিতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশটির সেনাবাহিনী ও প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে, যা অঞ্চলের "শত্রু ঘাঁটিগুলো" লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জর্ডান ও বাহরাইনে প্রথম দুই ধাপের আঘাত ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে শত্রুপক্ষের তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরেই এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম ধাপেই জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। হামলার পর ওই ঘাঁটির বেশ কয়েকটি জ্বালানি ডিপো এবং গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়। প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে, আইআরজিসি দাবি করেছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ওই বিমানঘাঁটির হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ নজরদারি বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং মার্কিন সামরিক ড্রোনের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। কুয়েতের দুটি ঘাঁটিতেও হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস কুয়েতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়াও, আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার সিস্টেমেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।"

১৩ জুলাই, ২০২৬পড়ুন →
জাতীয়

জাতীয় নিরাপত্তা: বরিশালে অত্যাধুনিক সামরিক মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের বাবুগঞ্জের পূর্ব রহমতপুর এলাকার রণক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে তিনি সামরিক বাহিনীর আধুনিক সক্ষমতা ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উচ্চমান ও প্রস্তুতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হলো। রণক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ বেলা সাড়ে ১১টায় মহড়াস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের দুর্গম ও ঘন জঙ্গলে অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুকরণে পরিচালিত বিভিন্ন কৌশলগত অনুশীলন গভীর মনোযোগে প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা মহড়ার বিভিন্ন দিক ও সেনাবাহিনীর বিস্তারিত যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। বিশেষভাবে, শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্ষম অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম দেখে তিনি মুগ্ধ হন। কর্মকর্তারা এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর কৌশলগত ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন, যা দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। সৈনিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি কিছু সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন, যা উপস্থিত সকলকে অভিভূত করে। এই মানবিক দিক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক বাহিনীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সংযোগের পরিচয় বহন করে। মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি তাকে পরিবেশন করা হয়, যা এক অনন্য ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা: প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনাবাহিনীর প্রতি দেশের জনগণের গভীর আস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন: দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, "সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর জন্য এক বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে।" এই আস্থা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একটি সেনা পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে সেনাসদস্যদের কাছে এলে তার শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যা তার ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর নিবিড় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং পেশাগত উৎকর্ষে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

১৩ জুলাই, ২০২৬পড়ুন →
দূর্যোগাবস্থা

প্রলয়ঙ্করী বন্যার গ্রাসে ৭ জেলা: মৃত্যুপুরীতে রূপান্তর, নিথর ৫৪ প্রাণ!

দেশের পাহাড়ি ঢল, টানা বর্ষণ এবং আকস্মিক ভূমিধসের জেরে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের ৭টি জেলা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যেখানে প্রায় ৬ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতি যেন এক নীরব মৃত্যুপুরীর চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ আর অনিশ্চয়তা। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বিভীষিকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, সোমবার পর্যন্ত দেশের ৭টি জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ—বন্যার সরাসরি প্রভাবে রয়েছে। এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভায় স্বাভাবিক জনজীবন থমকে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবারের সদস্যবৃন্দ, যাদের অধিকাংশেরই ঘরবাড়ি বন্যার করাল গ্রাসে বিলীন হওয়ার পথে। মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। মৃত্যুর কঙ্কাল: জেলাভিত্তিক চিত্র বন্যার ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে কক্সবাজারে, যেখানে সর্বোচ্চ ৩১ জনের প্রাণহানি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন। প্রতিটি মৃত্যুই যেন প্রশ্ন তুলছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে। পানিবন্দি মানুষের আর্তনাদ ও সংকট হাজার হাজার পরিবার তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হয়েছেন। বন্যার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ত্রাণ ও জরুরি পরিষেবা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। পানিবন্দি মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার তীব্র সংকটে ভুগছেন। অনেক এলাকায় শিশুরা জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। "আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত ত্রাণ, খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান। তবে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।" — সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উক্তি। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান সরকার দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে, যেখানে ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো দিনরাত এক করে উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। তবে ক্ষতির ব্যাপকতা এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই কার্যক্রমগুলোও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যা সুদূরপ্রসারী মানবিক সংকটের জন্ম দিতে পারে। এই প্রলয়ঙ্করী বন্যা শুধু প্রাণহানিই ঘটায়নি, জন্ম দিয়েছে এক গভীর মানবিক বিপর্যয়ের। যদি দ্রুত এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা না যায়, তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ও খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। প্রকৃতির এই রূঢ় আঘাতে বিপর্যস্ত জনজীবনের ঘুরে দাঁড়ানো এখন এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। "অপরাধনামা" এই দুর্যোগের শিকার প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি জরুরি মানবিক সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছে।

১৩ জুলাই, ২০২৬পড়ুন →
মধ্যপ্রাচ্য সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: ইরানে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকার ও তেহরানের জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপ

অপরাধনামা ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ইরানে সাম্প্রতিক হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। যদিও ইরান তাদের নৌ-সামরিক এলাকায় হামলার দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। এর ফলে তেহরান জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরবের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে। মুসলিম বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সৃষ্ট এই অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হামলার বিস্তারিত ও ইরানের দাবি ইরানের স্থানীয় প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণের কোণারক শহরের একটি নৌ-সামরিক এলাকা যুদ্ধবিমানের বিমান হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) জানিয়েছে, সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ ইউনুস হাক্কানি নিশ্চিত করেছেন যে, কোণারক নৌ-সামরিক অঞ্চলে দুটি ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা দুটি ভিন্ন বিমান হামলার ইঙ্গিত দেয়। হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে, এই হামলার পেছনের শক্তি কারা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এই হামলা নিঃসন্দেহে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার উপর একটি গুরুতর আঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অস্বীকার এই হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের দিকে সন্দেহের তীর উঠলেও, ওয়াশিংটন তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে। আল জাজিরাকে দেওয়া তথ্যে একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকান বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে কোনো নতুন হামলা চালায়নি। তিনি সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলেও, স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্বীকার মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে এবং হামলার প্রকৃত উৎস নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তেহরানের জরুরি কূটনৈতিক তৎপরতা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় তেহরান দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথে হেঁটেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে জরুরি আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, দুই নেতা চলমান সংঘাত, সাম্প্রতিক হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। মুসলিম বিশ্বের এই দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্রের মধ্যে এমন জরুরি আলোচনা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে সংহতি ও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পূর্বাপর ও বিশ্লেষণ এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বুশেহর, চাবাহার, বন্দর আব্বাস এবং জাস্ক এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার কথা স্বীকার করেছিল। তবে, কোণারকের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণে ওয়াশিংটনের জড়িত থাকার অস্বীকার এই হামলার আসল উৎস সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর ফলে, এই অঞ্চলে তৃতীয় কোনো শক্তির সক্রিয়তা অথবা অভ্যন্তরীণ কোনো সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে নতুন হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের দায় অস্বীকার এবং একই সময়ে ইরানের সৌদি আরবের সঙ্গে জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগ – এই তিনটি ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সংঘাতের আরও বৃদ্ধি হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ, তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। এর ফলে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা মুসলিম বিশ্বের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। অপরাধনামা বিশ্বাস করে, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি এই সংকটময় মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বাইরের শক্তির উস্কানি বা বিভেদ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিয়ে মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক, এটাই বাংলাদেশের গণমানুষের প্রত্যাশা।

১০ জুলাই, ২০২৬পড়ুন →
মধ্যপ্রাচ্য সংকট

মার্কিন হামলায় ইরানের সমুদ্রবন্দর ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

বুধবার (৮ জুলাই) মধ্যরাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) ইরানের বিশাল এলাকাজুড়ে বড় আকারের হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় দেশটির তিনটি প্রধান সমুদ্রবন্দর আব্বাস, কোনারক এবং চাবাহার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দর আব্বাস ইরানের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও আশপাশে ইরানের নৌবাহিনী এবং সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) যত স্থাপনা রয়েছে, প্রায় সবগুলোতে হামলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট এক বার্তায় সেন্টকোম জানায়, “যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতায় হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার জন্য এই হামলা পরিচালনা করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য কর হামলা পরিচালনার জন্য ইরানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।” মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের হামলার বুধবারের চেয়ে হামলার মাত্রা বেশি ছিলো। হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। ফের আগ্রাসন চালালে হামলা আরও ভয়াবহ হবে।” ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, “মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী ও আইআরজিসি’র অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা মার্কিন হামলার জবাব দেব।”

১০ জুলাই, ২০২৬পড়ুন →
দাঙ্গা

বরিশালে থানায় হামলা ও সংঘর্ষে ১৮ জন গ্রেফতার

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজবের পর কয়েক শতাধিক মানুষের মিছিল নিয়ে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থানার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, রিয়াজ ফকিরকে গ্রেফতার করে থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে কয়েক শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। আহতের সংখ্যা বেড়ে যায় এ ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগম (৪৭)সহ অন্তত ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন এবং অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছিল। পুলিশের প্রতিক্রিয়া রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, রিয়াজ নিজেই থানার হাজতে নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তী অভিযান শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান। তিনি জানান, হামলার ঘটনার পর থেকেই থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে আরও কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। হামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি। পূর্ববর্তী ঘটনা এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ।

১০ জুলাই, ২০২৬পড়ুন →
অন্যান্য

ববি বেগম কে নিয়ে সৈকত আমিন এর লেখা

বুবি মারা গেছেন। তাঁকে ঘুম থেকে উঠিয়ে পিটিয়ে মেরেছে ‘দুর্বৃত্তরা’। কাছে ৪০ হাজার টাকা ছিল। ২৫ বছর ধরে বুবি ওই টাকা জমিয়েছিলেন ভিক্ষা করে, প্লাটফর্ম পরিষ্কার করে। টাকাগুলো আর নেই। ওরা নিয়ে গেছে। মৃত্যুর আগে ক্ষতবিক্ষত মুখ নিয়ে বুবি স্টেশনের একটা চেয়ারে বসেছিল নীরবে, নিরুত্তাপ দৃষ্টিতে। এমনিতেও সত্তুর বছর বয়সী বেশিরভাগ নারীর এই পৃথিবীর উদ্দেশ্যে নতুন করে কিছু বলার থাকে না। জীবন তাঁদের এতোটাই ক্লান্ত করে রাখে যে, নতুন কোনো কথার ভার বয়ে বেড়ানোর ক্ষমতা তাঁদের থাকে না। কিন্তু বুবির গল্পটা আলাদা। কারণ সত্তুর বছর জীবনে সে কখনওই কিছু বলেনি। একটি অর্থপূর্ণ সম্পূর্ণ বাক্যও না। কিন্তু কথা বলতে পারলে তিনি কী বলতেন? টাকার জন্য যখন তাকে মারা হচ্ছিল, তখন তিনি চিৎকার করে কাকে ডাকতেন? মাকে? বাবাকে? আল্লাহ্‌কে? আচ্ছা, বুবির ধর্ম কী ছিল? ২৫ বছর আগে ট্রেনে চড়ে মেথিকান্দা স্টেশনে এসেছিলেন বাক্‌প্রতিবন্ধী বুবি। তিনি কোত্থেকে এসেছিলেন? কেন? কারো প্রতি অভিমান করে? মেথিকান্দা স্টেশন থেকে কেন বুবি আর ফিরে গেলেন না? কার কাছে আর গেলেন না? নাকি এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশন, আবারও এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশন করে তিনি পালিয়ে বেড়িয়েছেন জীবন থেকেই? তাহলে মেথিকান্দা থেকে কেন পালালেন না? কিসের আর কার অপেক্ষায়? কোনো প্রিয়জনের অপেক্ষায়? আবারও পালানোর সুযোগের অপেক্ষায়? মৃত্যুর অপেক্ষায়? ২৫ বছর ধরে বুবি এক এক করে ৪০ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন। গড়ে প্রতিদিন ৪ টাকা ৩৮ পয়সা। এই টাকা দিয়ে বুবি কী করতেন? কাউকে দিতেন? কোনো একদিন দূরে কোথাও পৃথিবীর মানচিত্র থেকে খসে পড়া একখণ্ড জমি কিনতেন? নিজের জন্য বাড়ি বানাতেন? অন্য কারো জন্য বানাতেন? কবরের জায়গা বায়না করে রাখতেন? বুবি এসব কিছুরই উত্তর দিয়ে জাননি। বুবি মেথিকান্দা স্টেশনে নীরবে এসেছিলেন। অনেকদিন পর্যন্ত হয়তো কেউ টেরই পায়নি যে- নতুন দুইটি পাও তাঁদের সাথে একই প্লাটফর্মে রোজ হাঁটছে। বুবি একইরকম নীরবে চলে গেছেন। অনেকদিন পর্যন্ত হয়তো কেউই টেরই পাবে না যে- পুরনো দুইটি পা তাঁদের সাথে ওই প্লাটফর্মে রোজ আর হাঁটছে না। বুবির জন্য কোনো শোকসভা হবে না, বুবি হত্যার বিচার চেয়ে মিছিল হবে না, বুবির কবরে তাঁর নামও লেখা হবে না। বুবির না বলা কথার চেয়েও বেশি নীরবে আমরা ভুলে যাবো, এই দেশের স্টেশনগুলোতে বাস করা মানুষদের চাইলেই মেরে ফেলা যায়। কিন্তু যারা স্টেশনে থাকে- তাঁরা মরবে, মরুক। আমাদের কীসের দায়? লেখাঃ সৈকত আমিন।

৯ জুলাই, ২০২৬পড়ুন →
জাতীয়

২৪ দিনের মধ্যে ময়মনসিংহে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ১ জন কে কারাদন্ড প্রদান

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আদালত চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ড প্রদান করেছে। আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ৩ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন। গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ৯ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, অর্থদণ্ডের অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

৯ জুলাই, ২০২৬পড়ুন →