নরসিংদীর রায়পুরায় এক বীভৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জংলী শিবপুর বাজারে একটি গুদামঘরে আটকে রেখে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক বেকারি শ্রমিককে। গত বুধবার রাতে সংঘটিত এই ঘটনাটি এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় এখনো রহস্যে ঘেরা

নিহত শ্রমিকের পরিচয়

নিহত তরুণের নাম নাসির মিয়া (২২)। তিনি রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের জংলী শিবপুর এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বেকারিতে কাজ করতেন। নাসিরের এমন আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম।

কী ঘটেছিল সেই রাতের অন্ধকারে?

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় নাসির জংলী শিবপুর বাজারে গিয়েছিলেন। রাত আটটা নাগাদ তাকে বাজারের একটি গুদামঘরে আটকে ফেলা হয়। এরপর সেখানেই তাকে নির্মমভাবে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন

তদন্ত এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ বা এতে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন,
"নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। আমরা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।"
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জান্নাতুল নাঈম নিহত শ্রমিকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান,
"গত রাতে ওই তরুণকে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।"
চিকিৎসকের এই ভাষ্য নিশ্চিত করে যে নাসিরকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

পরিবারের আকুল আবেদন

নাসিরের পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাতে একজন ফোন করে তাদের জানায় যে বাজারে অনেকে মিলে নাসিরকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখেছে। এই খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে নাসিরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনেরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, পুলিশ দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।