দেশের ইতিহাসে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে
গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত ক্ষোভের বিস্ফোরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
দুঃশাসন, দুর্নীতি ও নৃশংসতার প্রেক্ষাপট
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে স্পষ্ট করেন যে, এই গণ-অভ্যুত্থান আকস্মিক ছিল না। বরং
দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, বিচারবহির্ভূত গুম-খুন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং ক্রমাগত নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভই স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে ওঠে। এটি ছিল সাধারণ মানুষের জীবন থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়ার এক প্রতিবাদী উচ্চারণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বৈরাচারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী জনচেতনার বহিঃপ্রকাশ ছিল।
জুলাই মাসের ১৬ তারিখে রংপুরে
আবু সাঈদের প্রসারিত হাতের ছবি এবং গুলিতে তার শাহাদাৎবরণ দেশের আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়। একই দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও কয়েকজন তরুণ প্রাণ হারান। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আটক, জেল-জুলুম এবং সর্বস্তরের জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
এতে অসংখ্য তরুণ-তরুণী আহত হন, যাদের অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে আজও যন্ত্রণাময় জীবন কাটাচ্ছেন।
জনগণের ক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার
রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন,
“জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন বা অর্জন নয়; এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে,
রাষ্ট্রের শক্তির উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাইয়ের চেতনা একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়।
বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জুলাই শহীদদের আত্মদান ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান-স্বীকৃতি, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং
সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। রাষ্ট্রপতি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকে সরকারের পাশাপাশি এই মহৎ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত ও শাশ্বত শান্তি কামনা করেন।