ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আদালত চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ড প্রদান করেছে। আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ৩ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন। গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ৯ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, অর্থদণ্ডের অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।