কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনপুর এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন সময়ে ব্রাজিল সমর্থক মো. শরিফুল ইসলামকে (৩২) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর্জেন্টিনা গোল হজম করার পর শরিফুলের উল্লাস এবং আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রতি
তীব্র কটাক্ষই এই ভয়াবহ ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত আনুমানিক দশটা ত্রিশ মিনিটের দিকে উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় আর্জেন্টিনা ও মিশরের একটি ফুটবল ম্যাচ চলছিল। খেলা চলাকালীন সময়ে আর্জেন্টিনা দল একটি গোল হজম করলে উপস্থিত ব্রাজিল সমর্থক মো. শরিফুল ইসলাম উল্লাসে ফেটে পড়েন। তিনি কেবল উল্লাসই করেননি, বরং আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের ট্রল ও কটাক্ষ করতে থাকেন। এতে উপস্থিত উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে মোড় নেয় এবং
বেশ কয়েকজন আর্জেন্টিনা সমর্থক ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফুলের ওপর চড়াও হন। তাকে বেদম মারধর করা হয়।
মারধরের একপর্যায়ে শরিফুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মো. শরিফুল ইসলাম নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার উত্তর চেরাংগা গ্রামের মো. মতিউর রহমানের ছেলে। তার বয়স ছিল
৩২ বছর।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ
এসআই সংকর কান্তি দাস এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,
মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনা-মিশরের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে আর্জেন্টিনা গোল খাওয়ার পর ব্রাজিল সমর্থক শরিফুল ইসলাম উল্লাস প্রকাশ করেন এবং আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রল ও কটাক্ষ করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন আর্জেন্টিনা সমর্থক শরিফুলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন।
এদিকে, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
তৌহিদুল আনোয়ার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন,
খেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ফুটবল ঘিরে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।