গতকাল সোমবার নোয়াখালীর বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এক ভয়াবহ অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। আসামি শাহাদাত হোসেন (২৬), যিনি নিহত শিশু আসমা আক্তারের জেঠাতো ভাই, তাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। “এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য।” — ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার

ঘটনার বিবরণ ও তদন্ত

২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে আসমা আক্তার (৫) নামে ওই শিশুটি তার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনার নয় দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, আসামি শাহাদাত হোসেন তাকে ধর্ষণ করার পর শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ একটি সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে রাখে। তদন্ত চলাকালীন শাহাদাত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে হত্যা করে। ঘটনার পর নিহত শিশুর বাবা মাওলানা শাহজাহান বাদী হয়ে চাটখিল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

আদালতের রায় ও পরবর্তী পদক্ষেপ

বিচারক ফারজানা আক্তার তার রায়ে উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধ অত্যন্ত জঘন্য এবং এর জন্য মৃত্যুদণ্ডই উপযুক্ত শাস্তি। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর সেলিম শাহী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এই রায় শিশুদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা।” ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।