← সকল সংবাদে ফিরে যান
খামেনির জানাজায় স্পিকার ও জামায়াত নেতাদের সফর: ঢাকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির নিশ্চুপ ঘোষণা
✍️ অপরাধনামা📅 2026-06-30📂 আন্তর্জাতিক📍 আন্তর্জাতিক🏷️ আন্তর্জাতিক
চলমান মার্কিন-ইরান সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর পুরো বিশ্বে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। তবে এক অভাবনীয় যুদ্ধের পর ইরান যখন একটি সম্মানজনক চুক্তির মাধ্যমে এই লড়াইয়ের অবসান ঘটায়, তখন আগামী ৪, ৭ ও ৯ জুলাই ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে খামেনির জানাজার সিদ্ধান্ত হয়। আন্তর্জাতিক মহলে চমক জাগিয়ে ইরানের এই নেতার জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল, যার মধ্যে রয়েছেন মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি এবং ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
একটি চরম সংবেদনশীল ও যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের এই যুগপৎ ইরান সফর মোটেও সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। এটি মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকার একটি স্বাধীন ও স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতির নিশ্চুপ ঘোষণা।
বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে তার অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও কূটনীতির জন্য পশ্চিমা ব্লক এবং মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি আরব দেশগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে লড়াই করে একটি সম্মানজনক চুক্তিতে আসা ইরানের মাটিতে স্পিকারের মতো সাংবিধানিক প্রধান এবং জামায়াতের মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাঠানো প্রমাণ করে যে, ঢাকা এখন কোনো একক পরাশক্তি বা নির্দিষ্ট ব্লকের আজ্ঞাবহ নয়।
পশ্চিমা পরাশক্তির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশ এই সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো বড় ঢাকঢোল না পিটিয়ে, অত্যন্ত সুনিপুণ ও শান্ত কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বকে এই বার্তাই দিল যে—নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের সিদ্ধান্ত ঢাকা এখন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিতে সক্ষম।