বাঞ্ছারামপুরের সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ জন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন। গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে ঘটা এই সংঘর্ষের সময় ২০-২৫টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর গ্রামের শেবু সরকার বাড়ি এবং আজগর আলী সরকার বাড়ির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। কোরবানির ঈদের আগে ও পরে আজগর আলী সরকার বাড়ির দুজনকে পিটিয়ে আহত করে শেবু সরকার বাড়ির মুক্তার হোসেনের লোকজন। এর জেরে আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনকে এলাকাছাড়া করা হয়। সোমবার ভোরে তারা বাড়িতে ফিরলে পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে উভয় পক্ষই একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। আজগর আলী সরকার বাড়ির ফরহাদ হোসেনের অভিযোগ, মুক্তার হোসেনের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে ১০-১৫টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। অন্যদিকে মুক্তার হোসেনের দাবি, প্রতিপক্ষরাই ভোরে তাদের ১৫-২০টি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ ১৮ জন হলেন– লালু মিয়া, সোরহাব, রাসেল, ফারুক, আরমান, শরীফ, মাসুদ, সবুজ, সুজন, নিজাম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, তারা মিয়া, আউয়াল, সুরুজ, আল ইসলাম, ফজলু মিয়া, দিনা আক্তার এবং ইয়ামিন মিয়া। এদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আল-আমিন, বাদশা মিয়া, বকুল মিয়াসহ আরও ৬ জনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।