সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে আধিপত্যবাদ-বিরোধী জনপ্রিয় স্লোগান "দিল্লি না ঢাকা" - এর ভাষাগত ও কাঠামোগত যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনীতিবীদ সামান্থা শারমিন বলেন যে "দিল্লি না ঢাকা একটি ভুল স্লোগান আমাদের উচিত "দিল্লি না বাংলাদেশ" স্লোগান ব্যবহার করা।
এই প্রস্তাবনার যৌক্তিকতা ও তুলনামূলক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে। যুক্তিবিদ্যার সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো তুলনামূলক আলোচনা বা স্লোগান সমজাতীয় বা সমান্তরাল দুটি উপাদানের মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়। এর ব্যতিক্রম হলে সেটি যুক্তিগত ভ্রান্তি বা লজিক্যাল ফ্যালাসি - তে পরিণত হয়। দিল্লি ভারতের রাজধানী এবং ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। ফলে 'দিল্লি বনাম ঢাকা'র তুলনাটি সমান্তরাল ও যৌক্তিক। অন্যদিকে, একটি নির্দিষ্ট শহরের সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন রাষ্ট্রের তুলনা করা কাঠামোগতভাবে অসম। এবং অপমানজনক। "দিল্লি না ঢাকা" - স্লোগানটি মূলত একটি আধিপত্যবাদ-বিরোধী রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। ঐতিহাসিকভাবে দিল্লি-কেন্দ্রিক শাসন ও প্রভাব বলয়ের বিপরীতে স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে রাজধানী ঢাকাকে এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এটি মূলত কেন্দ্র বনাম কেন্দ্রের একটি আদর্শিক তুলনার প্রকাশ। যেকোনো তুলনামূলক বক্তব্যে সঠিক বার্তা প্রদানের জন্য সমজাতীয় উপাদানের ব্যবহার অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে মুম্বাই বনাম চট্টগ্রাম - , পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মেঘালয় বনাম সিলেট - এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভারত বনাম বাংলাদেশ - বলা যেতে পারে। রাজনৈতিক স্লোগান কেবল আবেগনির্ভর নয়, বরং সঠিক বার্তা ও যৌক্তিক কাঠামোর ওপরও নির্ভরশীল। একটি শহরের সাথে একটি স্বাধীন দেশের তুলনা করা হলে তা রাষ্ট্রের সমমর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। বরং ভূ-রাজনৈতিক ও আধিপত্যবাদ-বিরোধী বার্তা হিসেবে "দিল্লি না ঢাকা" - স্লোগানটি ভাষাগত, যৌক্তিক এবং কাঠামোগত দিক থেকে অধিকতর সুনির্দিষ্ট ও অর্থবহ।