জাতীয় সংসদে এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান জানিয়েছেন, জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত অমুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সুবিধাভোগী ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে, রাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণকারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধেও সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংসদে মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা: জালিয়াতদের কোনো ছাড় নয়

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তার এই বক্তব্যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতার নীতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, "শুধু কোটার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত নয়, যেসব অমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সুবিধাভোগীরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার করে যারা এতদিন পার পেয়ে গেছেন, তাদের দিন শেষ।

সাতাত্তর হাজারেরও বেশি জালিয়াতির আশঙ্কা

সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, একটি বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশিত ৭৯ হাজার অমুক্তিযোদ্ধার তথ্য _চূড়ান্ত বা নির্ভুল নয়_। প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই তথ্য দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জালিয়াতির গভীরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
"আমাদের সরকার মুক্তিযুদ্ধের সরকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে।"
মন্ত্রী তার বক্তব্যে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের মামলার বিষয়টিও উল্লেখ করেন, যা জালিয়াতি ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সরকারের অনড় অবস্থানের প্রমাণ দেয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার করে যারা দেশের সর্বোচ্চ সম্মানকে কলঙ্কিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের এই পদক্ষেপ দেশজুড়ে সাধুবাদ কুড়িয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ রক্ষায় সরকার আপসহীন।