কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঐ মাদ্রাসার শিক্ষকসহ দুই জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ জুন দিবাগত রাতে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাজির মসজিদ সংলগ্ন নুরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায়

আসামিরা কে কে?

আসামিরা হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক সহিদুল ইসলাম (৪০) এবং উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে রাকিব (১৯)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। তবে পুলিশ ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

ঘটনার বিবরণ

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাগড়াকুড়া বাজার এলাকার আনু মিয়ার ছেলে রাকিব উক্ত মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের কিশোরী শিক্ষার্থী মুন্নী আক্তারের (১৭) (ছদ্মনাম) সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সেই সুবাদে গত ৩০ জুন বিকালে রাকিব ওই শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসায় আসতে বললে প্রেমিকার ডাকে সে সেখানে আসে এবং মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে উভয়ে প্রেমালাপ করে। এক সময় প্রেমিক যুগলকে মাদ্রাসায় দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সহিদুল ইসলামের নজরে পড়লে তিনি সেখানে যান। প্রেমিক রাকিব তাকে নিজেদের পরিচয় দেন এবং রাতেও সেখানেই অবস্থান করেন। পরবর্তীতে রাত গভীর হলে ওই শিক্ষক প্রেমিক-প্রেমিকার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাকিবকে শ্রেণিকক্ষেই ঘুমাতে বলে শিক্ষার্থী মুন্নিকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে নিয়ে যান। এরপর অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে লম্পট শিক্ষক তাকে চর থাপ্পর মেরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এমতাবস্থায় মেয়েটির আত্মচিৎকারে রাকিব দ্রুত ছুটে এসে শিক্ষক সহিদুলের হাত থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে।

মামলা ও পুলিশের ভূমিকা

পরদিন সকালে শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি স্বজনদের জানায়। এরপর ভিকটিমের স্বজনরা ন্যায়বিচার চেয়ে স্থানীয় মাতাব্বর ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিচার দিলে তারা বিচার না করে বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভিকটিমের পরিবারের উপর চাপ এবং কালক্ষেপণ করতে থাকলে ধর্ষিতার নানা বাদি হয়ে গত শনিবার (৪ জুলাই) রাকিব ও সহিদুল ইসলামকে আসামি করে উলিপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাঈদ ইবনে সিদ্দিক মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ ধরনের ঘটনা সমাজে নিন্দনীয় এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।