শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক রাজনৈতিক নেতাকে হাত-পা বেঁধে বর্বরোচিত কায়দায় নির্যাতন ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে নালিতাবাড়ী পৌরশহরের চকপাড়া এলাকায় এই হামলার শিকার হন
জাহিদ হাসান, যিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় নেতা এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, জাহিদ হাসান নালিতাবাড়ী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ব্যবসায়ী ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার দিন রাতে বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে দুই মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত চার দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলাকারীরা জাহিদের মাথায় একটি
কালো ব্যাগ পরিয়ে তাকে অন্ধকার স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা তার সাথে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
ভিকটিম জাহিদ হাসানের পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। জাহিদের ভাই
আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এই হামলার ছক কষা হতে পারে।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আরিফ রাব্বানী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“জাহিদ হাসান আগে থেকেই হামলার আশঙ্কা করছিলেন। এই নৃশংস হামলা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করব।”
চিকিৎসা ও আইনি ব্যবস্থা
গুরুতর আহত অবস্থায় জাহিদ হাসান বর্তমানে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক
তানভীর ইবনে কাদের জানিয়েছেন, জাহিদের শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে, নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, জাহিদের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।