← সকল সংবাদে ফিরে যান✍️ অপরাধনামা ডেক্স📅 2026-07-05📂 জাতীয়📍 ঢাকা
সাবেক ক্রিকেট বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চেয়ে তিনটি চিঠি পাঠিয়েছে। অনুসন্ধান দলের প্রধান দুদক উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিগুলো গত ১ জুলাই বিসিবির বর্তমান সভাপতির কাছে প্রেরণ করা হয়।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, “পাপনের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র বিসিবির কাছে চাওয়া হয়েছে।”*
পাপনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কী?
- ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আত্মসাৎ
- নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন
- বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার
কোন কোন নথিপত্র চাওয়া হয়েছে?
দুদকের চিঠিগুলোতে বিসিবির কাছে বেশ কয়েক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুলিপি চাওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণের পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তিপত্র ও বিজ্ঞাপনের কপি
- বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যাদেশ ও ঠিকাদারদের বিস্তারিত তথ্য
- বিসিবির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও পরিচালনা পর্ষদের সভার রেকর্ড
- ২০১২-২০১৩ থেকে ২০২৫-২০২৬ সাল পর্যন্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন
- বিসিবির অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণকারী কর্মকর্তাদের তালিকা
- বিপিএলের টিকিট বিক্রয় সংক্রান্ত দরপত্র ও হিসাব বিবরণী
- বিসিবির সভাপতি ও পরিচালকদের সম্পূর্ণ তথ্য (ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ)
তিনটি চিঠিতেই বিসিবিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাপনের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী অভিযোগ
গত বছরের ৫ মে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে পাপন এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে দুদক। এছাড়া, বিসিবির সাবেক এই সভাপতি কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের এমপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধান দল এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অন্যতম বড় দুর্নীতির ঘটনা।