রাজধানীর মিরপুরে কেরোসিনের আগুনে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা পোশাকশ্রমিক
শিফা আক্তার (১৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দগ্ধ হওয়ার ১১ দিন পর রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত শিফার স্বামী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেছে শিফার পরিবার।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নতুন তথ্য
তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পারে, শিফা মায়ের বাসা থেকে বের হয়ে নিজেই শরীরে গ্যাস লাইটার দিয়ে আগুন ধরান। এ সংক্রান্ত একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে।
শিফার পরিবারের অভিযোগ
শিফার বাবা
জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, বিয়ের সময় কিছু টাকা সোহেলকে যৌতুক হিসেবে দেয়ার কথা ছিল। তবে অভাবের কারণে সেই টাকা তখন দিতে পারেননি তিনি। টাকার জন্য সোহেল ও তাঁর মা–বাবা শিফাকে নানাভাবে চাপ দিত। সোহেল তাকে মারধরও করতেন। এরপরই শিফা গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছিলেন। পরে সোহেলও ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নেন। শিফা ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, এক মাস আগেও সোহেল শিফাকে মারধর করে। তাঁকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। শিফা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে চাকরি ছেড়ে দেন।
তিনি বলেন,
২৪ জুন রাতে সোহেল আমার মেয়ের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
পুলিশের তদন্ত ও মামলার প্রক্রিয়া
মিরপুর থানার ওসি
হাফিজুর রহমান রোববার রাত সোয়া ১১টায় সমকালকে বলেন, গত ২৪ জুন দগ্ধ হয়ে শিফা হাসপাতালে ভর্তি হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়নি। রোববার বিকেলে মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। ঘটনাস্থলের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। তাতে দেখা যায়, শিফা মায়ের বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে একটি দোকান গ্যাস লাইটার নিয়ে নিজের শরীরে আগুন ধরাচ্ছে।
ওসি জানান, মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় স্বামী সোহেলের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।